"How to change yourself", How to find way in life? how can possible? Share my life with you.

Breaking

Friday, July 2, 2021

ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় (Dr. Bidhan Chandra Roy)


 *জন্ম ও মৃত্যু একই দিনে , ( 1st  July ) - ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়

==============

 *অসুস্থ কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রীকে সুস্থ করলেন ডাক্তার বিধান রায়, ফি হিসেবে চাইলেন “দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা”* 

===============

গান্ধীজী একবার এক বঙ্গসন্তানকে বলেছিলেন, “আহা আপনি যুক্ত প্রদেশের (অধুনা উত্তরপ্রদেশ) গভর্নরের পদগ্রহণ করতে রাজি হলেন না, আমি ভেবেছিলাম, আপনাকে ‘ইওর এক্সেলেন্সি’ বলে ডাকার সুযোগ পাব। তা হতে দিলেন না!” 


বাঙালিবাবু হেসে জবাব দেন, ‘‘আমি আপনাকে আরও ভাল বিকল্প দিতে পারি। আমি পদবীতে রয়, তাই আপনি আমাকে রয়্যাল বলতে পারেন। আর যে হেতু অনেকের চেয়ে লম্বা, সে হেতু আপনি আমাকে রয়্যাল হাইনেস বলতে পারেন! সেটা কিন্তু যথার্থই হবে।’’


সে দিন তিনি গভর্নর হতে রাজি হননি। পরবর্তী কালে হন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। 


১৯৪৮ সালের ২৩শে জানুয়ারি প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষকে সরিয়ে তাঁকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ৬২, এই চোদ্দবছর ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আর ঐ সময়টাই ছিল পশ্চিম বাংলার স্বর্ণযুগ ।


 *স্বাধীনতার ঠিক পরে কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার সিদ্ধান্ত নিল দেশ জুড়ে সোভিয়েত, ব্রিটিশ ও জার্মানির সহযোগিতায় ৮টি বড় ইস্পাত কারখানা তৈরী হবে, তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম ছিলোনা ।* 


এ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিল কারণ ডাক্তার বাবু চেয়েছিলেন রাণীগঞ্জ কয়লা খনি সংলগ্ন দুর্গাপুরে একটা কারখানা হোক। প্রয়োজনীয় সার্ভেও করে রেখেছিলেন তিনি । 


কেন্দ্র যুক্তি দেখালো দুর্গাপুর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তের ১০০ মাইলের মধ্যে। ফলে যুদ্ধ বাধলে লক্ষ্যে পরিণত হবে কারখানাটি। সামরিক গোয়েন্দা রিপোর্টের তথ্য। 


মানলেন না বিধান চন্দ্র রায় ওদিকে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুজীও তাঁর সিদ্ধান্তে অটল ।


তারপর একদিন মুখ্যমন্ত্রী দুই জনপ্রিয় পত্রিকা আনন্দবাজার ও যুগান্তরের চীফ রিপোর্টার শিবদাস চক্রবর্তী ও অনিল ভট্টাচার্যকে রাইটার্সে ডেকে পাঠালেন । 


বললেন তাঁরা যেন নিয়মিত কাগজে লিখে দুর্গাপুরে ইস্পাত কারখানা তৈরির পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। কিছুদিন পর থেকেই দুই পত্রিকায় ছাপা হতে লাগলে এ নিয়ে অসংখ্য রিপোর্ট।


সে সময়ের কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী ছিলেন উড়িষ্যার নিত্যানন্দ কানুনগো, ইস্পাত কারখানা প্রকল্প তারই অধীনে। 


একদিন বিধান চন্দ্র রায়কে যেতে হলো জাতীয় উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে। সভা চলাকালীন হঠাৎ শিল্পমন্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন । তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে, সেখানে পরীক্ষা করে দেখা গেল পিত্তথলিতে পাথর জমা হয়ে জটিল আকার নিয়েছে। ডা. রায় বললেন পরদিনই অপারেশন করতে হবে এবং সেটা তার তত্ত্বাবধানে হবে । আজকের মতন এই অপারেশন সেদিন এত সহজ ছিল না। 


মন্ত্রীমশাই বিদেশে চিকিৎসা করিয়েও ফল পাননি। যাইহোক বিধান চন্দ্রের চিকিৎসায় উনি ধীরে ধীরে ভালো হয়ে উঠলেন ।


 এরপর একদিন ডাক্তার বাবু গেলেন রোগী দেখতে। শিল্পমন্ত্রী ডা. রায়ের হাত ধরে বললেন, ‘আপনি আমার জীবন ফিরিয়ে দিলেন। কিন্তু কোনো ফি নিলেন না।’ বিধান চন্দ্র রায় একটু হেসে বলেছিলেন, ‘আমার ফি যদি দিতে চাও তাহলে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ছাড়পত্র দিয়ে দিয়ো।’


 ফি দিয়েছিলেন নিত্যানন্দ কানুনগো। নেহরুর সাথে লড়াই করে ঠিকই সম্মতি আদায় করলেন। তারপর এক দিন অনুমোদনের কাগজটি নিয়ে চলে এলেন কলকাতায়।


 মুখ্যমন্ত্রীকে খবর দিয়ে হাজির হলেন তাঁর দপ্তরে, হাতে একটা রুপার থালা সেখানে অনুমোদনের চিঠি। গিয়ে বললেন, ‘এই আপনার ফি’। বিধান রায় তখুনি চিঠিটি না খুলে খবর দিয়ে আনালেন আনন্দবাজার ও যুগান্তরের দুই চিফ রিপোর্টারকে। 


তারপর ওই দুজনকে নিয়ে চিঠিটা নিলেন । বলেছিলেন, বাংলায় এই কারখানার অনুমোদন পেতে এদের অবদানও কম নয় । ওনারা সেদিন প্রমাণ করে দিয়েছিলেন চাইলে রাজ্য বা দেশ গঠনে সাংবাদিকরাও সদর্থক ভূমিকা নিতে পারে ।


১৯৬১ সালে তিনি ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন | তাঁর জন্ম ও প্রয়াণদিবস একই দিনে | ১ লা জুলাই |

No comments:

Post a Comment

Ads